Monday, 19 October 2015

শাইখদের পূর্বের মতামত খণ্ডন করে তাবলীগ জামা'আত সম্পর্কে বিখ্যাত তিন সৌদশায়েখের ফতোয়া

তাবলীগ জামাত সম্পর্কে দেওবন্দীরা প্রচার করে যে, সৌদিআরবে বিখ্যাত আলিমগণ যেমন- বিন বায (রহঃ), উসাইমিন (রহঃ) উনাদের নাম ব্যবহার করে প্রচার করে যে, তাবলীগ জামাত হকপন্থী আহলে সুন্নাহ। এগুলি ছিলো শাইখদের পূর্বের মতামত যখন তাদেরকে জানানো হয়েছিলো যে, তারা কুরআন সুন্নাহর প্রচার করছে। পরবর্তীতে সৌদিআরবের শাইখগণ জানতে পারলেন যে তাবলীগ জামাতের লোকেরা কুরআন হাদীস বাদ দিয়ে বিভিন্ন শিরক ও বিদাত এবং বিভিন্ন আজগুবি স্বপ্নের ধর্মের প্রচার করে বলে নিশ্চিত হলেন তখন তারা যে মতামত পেশ করেছেন তা নিম্নরূপ। তাবলীগ জামাতের লোকেরা পরবর্তী মতামত গোপন করে পূর্বের মতামত পেশ করে সাধারণ মুসলিমদের ধোকা দিচ্ছে।
_____________________________________
তাবলীগ জামা'আত সম্পর্কে বিখ্যাত তিন সৌদি শায়েখের ফতোয়াঃ
====================================
প্রশ্নঃ আল্লাহ আপনার সাথে ভালো আচরণ করুন হে সম্মানিত শায়খ! এটা কি জায়েজ কোথায় বেড়িয়ে পড়া এক মাসের জন্য, এক সপ্তাহের জন্য অথবা একদিনের জন্য যেইভাবে তাবলিগ জামাতের লোকেরা করে থাকে? এটা কি সুন্নত নাকি বিদআ’ত?
শরীয়তের জ্ঞান অর্জনে অধ্যায়নরত এমন কারো জন্য এটাকি জায়েজ, এই জামাতের সাথে চিল্লা দেওয়া বা বের হওয়া?
■শায়খ সালিহ আল-ফওজান এর ফাতওয়াঃ
এটা জায়েজ নয়, কারণ এটা একটা বিদ'আত। এভাবে বেড়িয়ে যাওয়া ৪০ দিন, ৪ দিন, ৪ মাস এটা হচ্ছে বিদ'আত। এটা প্রমানিত যে, তাবলিগ জামা'আত হচ্ছে ভারতীয় দেওবন্দীদের মধ্য থেকে একটা “সূফী” জামাত। তারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায় তাদের “সূফীবাদ” প্রচার করার জন্য। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী কোন ব্যক্তি, তাওহীদের অনুসারী ব্যক্তির জন্য এটা জায়েজ নয় যে, তাদের সাথে তাবলীগে বের হওয়া। কারণ সে যদি এদের সাথে যায় তাহলে সে তাদেরকে বিদ'আত প্রচার করতে সাহায্য করলো। এবং লোকেরা তাকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করবে - “অমুক (আলেম বা শিক্ষিত লোক) তাদের সাথে তাবলীগে গেছে”, অথবা এটা বলবে “সাধারণ মানুষ সবাই আমাদের সাথে যায়” অথবা তারা বলবে “আরে তাবলিগ জামাত এইদেশে (সৌদি আরবে) বৈধ।”
এইজন্য তাদেরকে পরিত্যাগ করা ওয়াজিব, তাদেরকে পরিত্যাগ করা ওয়াজিব এবং তাদের দিকে মনোযোগ দেওয়া যাবেনা (তাদের কথা শোনা যাবেনা)।
এটা এজন্য যে, তারা তাদের বিদ'আত তাদের দেশে নিয়ে ফিরে যাবে, আমাদের আরব দেশগুলোর মাঝে ছড়াতে পারবেনা। এছাড়া তাদের সাথে গিয়ে তাদেরকে শিক্ষা দেওয়াও জায়েজ নয়। এটা ভুল, কারণ তারা দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে চায়না। তারা জ্ঞান অর্জন করতে চায়না কারণ তারা ধোকাবাজির লোক, তাদের বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। তারা এসেছে তোমাদেরকে (সূফীবাদ ও ইলিয়াসি তরীকা) শিক্ষা দেওয়ার জন্য, তারা এজন্য আসেনি যে তোমাদের কাছ থেকে কিছু শিখবে। তারা এসেছে তোমাদেরকে তাদের “সূফীবাদ” ও তাদের “মাযহাব” শিক্ষা দেওয়ার জন্য। তারা তোমাদের কাছে শিখতে আসেনাই, তারা যদি শিখতে আসতো তাহলে তারা আরব দেশের ওলামাদের সাথে মসজিদে বসতো এবং তাদের কাছ থেকে কিতাব অধ্যায়ন করতো। এসব ভুলের মধ্য থেকে এর দ্বারা ধোকায় পড়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নাআ’ম।
- আল্লামাহ, শায়খ সালিহ আল-ফওজান।
তথ্যসূত্রঃ শায়েখের ভিডিও: https://www.youtube.com/watch?v=WuP_bZ6RtNw
■শাইখ আবদ আল আযিয ইবন বাযঃ
===========================
জামায়াত আল তাবলীগ; তারা আকিদা সম্পর্কে যথাযোগ্য ধারণা রাখে না, কাজেই তাদের সাথে বের হওয়ার অনুমতি নেই, তবে যার ইলম আছে এবং আহল সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’র আকিদাহ সম্পর্কে যার সঠিকতা নির্ণয়ের এবং তা বুঝার ক্ষমতা আছে সে ব্যতীত, কেননা সে তাদেরকে পথ দেখাতে পারবে, উপদেশ দিতে পারবে এবং ভালো কাজে তাদের সাথে সাহায্যও করতে পারবে কারণ তারা খুবই কর্মপরায়ণ। কিন্তু তাদের আরও অনেক ইলম অর্জন করা প্রয়োজন এবং তাওহীদ ও সুন্নাহ সম্পর্কে পথ নির্দেশনা দেবার ক্ষমতা রাখে এমন ব্যক্তিদের দরকার। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রহমত দান করুন ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝার ক্ষমতা দিয়ে এবং তা ধরে রাখার কাজে দৃঢ়তা দান করুন।
তথ্য সূত্রঃ
=======
মাযমু ফাতাওয়া আল শাইখ ইবন বায, ৮/৩৩১
■ শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলে শাইখঃ
=============================
আমি মহোদয়ের নিকট এ প্রতিবেদন পেশ করছি যে, এই জামা'আতের কোনই ফায়দা নেই, এটি একটি বিদ'আতী এবং গোমরা সংগঠন। তাদের নিসাব গ্রন্থ পড়ে দেখলাম, তাতে গোমরাহী এবং বিদ'আত ভরপুর । এতে কবর পূঁজা এবং শিরকের দিকে আহ্বান করা হয়েছে । বিষয়টি এমনই যে, এ ব্যাপারে চুপ থাকা যায় না । এজন্য অবশ্যই আল্লাহ চাহেন তো আমি এর প্রতিবাদ লিপি পাঠাব যেন এর বিভ্রান্তি ও বাতিল প্রকাশ হয়ে পড়ে । আল্লাহর নিকট দু'আ করি তিনি যেন, তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন এবং কালিমাকে সুউচ্চে রাখেন- আমীন !
তারিখঃ ২৯/০১/১৩৮২ হিঃ
তথ্য সূত্রঃ ফতওয়া ও চিঠিপত্র, শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলে শাইখ, খন্ড ১ পৃঃ ২৬৭-২৬৮)
[সাবেক গ্রান্ড মুফতী, সৌদী আরব, তাঁর তথ্য মন্ত্রনালয়ের প্রধানকে লেখা পত্র]

No comments:

Post a Comment